History of Republic Day : প্রজাতন্ত্র দিবস আমরা উদযাপন করি কেন, এর পেছনে ইতিহাস কী ?

History of Republic Day :ভারতের ইতিহাসে প্রজাতন্ত্র দিবস একটি গৌরবময় অধ্যায়। প্রতিবছর ২৬ জানুয়ারি আমরা এই বিশেষ দিনটি উদযাপন করি। কিন্তু এই দিনটির তাৎপর্য কী? কেন এটি আমাদের জীবনে এত গুরুত্বপূর্ণ? চলুন জেনে নেওয়া যাক।

প্রজাতন্ত্র দিবসের ইতিহাস

১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা অর্জন করলেও দেশ তখনও একটি পূর্ণাঙ্গ প্রজাতন্ত্র ছিল না। স্বাধীনতার পর ভারত ব্রিটিশ আইনের উপর নির্ভর করছিল। তাই দেশের নিজস্ব সংবিধান প্রণয়ন করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর ভারতের সংবিধান গ্রহণ করা হয় এবং ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি এটি কার্যকর হয়। এই দিনটি ইতিহাসে স্থান পায় ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে।

প্রজাতন্ত্র দিবসের তাৎপর্য

প্রজাতন্ত্র দিবস শুধু একটি দিন নয়; এটি আমাদের জাতীয় গর্ব, ঐক্য ও গণতন্ত্রের প্রতীক। এই দিনে ভারত একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। দেশের প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার, স্বাধীনতা ও সুযোগ পেয়েছে এই সংবিধানের মাধ্যমে।

কীভাবে উদযাপন করা হয় প্রজাতন্ত্র দিবস

প্রতি বছর এই দিনটি সারা দেশে বিশেষ উৎসাহ ও উদ্দীপনার সাথে উদযাপিত হয়। দিল্লির রাজপথে অনুষ্ঠিত হয় মহামিলন। সেনাবাহিনীর প্যারেড, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী এবং ভারতের ঐতিহ্য তুলে ধরা হয় এই অনুষ্ঠানে। এছাড়া স্কুল, কলেজ এবং স্থানীয় সংগঠনগুলিতেও দেশপ্রেমমূলক গান, নাটক ও আলোচনা সভার মাধ্যমে দিনটি উদযাপিত হয়।

প্রজাতন্ত্র দিবসের শিক্ষা

প্রজাতন্ত্র দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, স্বাধীনতা অর্জন সহজ নয়। আমাদের সংবিধান শুধু একটি বই নয়; এটি আমাদের দেশের মানুষের রক্ত, ঘাম ও ত্যাগের প্রতিফলন। তাই আমাদের সংবিধানকে সম্মান করা, এর নীতি মেনে চলা এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।

History of Republic Day

History of Republic Day

Read More :

Republic Day :প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনে ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় কেন, জেনে নিন ?

প্রজাতন্ত্র দিবসের পেছনের ইতিহাস (History of Republic Day)

ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের ইতিহাস আমাদের দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করলেও তখনও দেশ ব্রিটিশ শাসনের প্রণীত আইন অনুসরণ করত। ভারতের নিজস্ব সংবিধান তৈরি করার প্রয়োজন ছিল, যা দেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি স্থায়ী ভিত্তি স্থাপন করবে।

সংবিধান প্রণয়নের সূচনা

১৯৪৬ সালে ভারতের সংবিধান প্রণয়নের জন্য একটি গণপরিষদ (Constituent Assembly) গঠন করা হয়। এই গণপরিষদে দেশজুড়ে প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন এবং দীর্ঘ আলোচনা ও বিতর্কের পর একটি খসড়া তৈরি করা হয়। ড. বি. আর. আম্বেদকর ছিলেন এই সংবিধান প্রণয়ন কমিটির চেয়ারম্যান।

সংবিধান কার্যকর হওয়া

১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর ভারতের সংবিধান গৃহীত হয়। তবে ২৬ জানুয়ারি, ১৯৫০ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়। এই দিনটি বেছে নেওয়া হয়েছিল, কারণ ১৯৩০ সালের এই দিনেই লাহোর কংগ্রেস অধিবেশনে পূর্ণ স্বরাজ (পূর্ণ স্বাধীনতা) ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রতীক

১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি, ভারত একটি সার্বভৌম গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এই দিন থেকে দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ব্রিটিশ আইন থেকে মুক্তি পেয়ে ভারত নিজের সংবিধান অনুযায়ী শাসন চালানো শুরু করে।

History of Republic Day

History of Republic Day

এই দিনটির তাৎপর্য

প্রজাতন্ত্র দিবস আমাদের দেশের গণতন্ত্র, মৌলিক অধিকার এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। এটি কেবলমাত্র একটি দিন নয়, এটি আমাদের সংগ্রামের ইতিহাস এবং ভবিষ্যতের পথচলার মাইলফলক।

প্রজাতন্ত্র দিবসের ইতিহাস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র একদিনে অর্জিত হয়নি। এটি ত্যাগ, পরিশ্রম এবং ঐক্যের ফল। তাই, এই দিনটি উদযাপন করা আমাদের সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক দায়িত্ব।

উপসংহার

প্রজাতন্ত্র দিবস শুধুমাত্র একটি সরকারি ছুটির দিন নয়; এটি আমাদের দেশের গৌরবময় ইতিহাস এবং ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক। এই দিনে আমরা আমাদের দেশপ্রেমকে পুনর্নবীকরণ করি এবং আমাদের দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করি।

“জয় হিন্দ!”

Leave a comment